আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হচ্ছে। শিক্ষাপঞ্জির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসাগুলোতে একযোগে এই ছুটি কার্যকর হবে। তবে মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) ক্লাস শেষ করেই দীর্ঘ এই বিরতিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সরকারি ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আনুষ্ঠানিক ছুটি ২৪ মে শুরু হলেও তার আগের দুদিন অর্থাৎ ২২ ও ২৩ মে যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার। ফলে ২১ মে বৃহস্পতিবারই হচ্ছে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। এতে করে ২২ মে থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছুটির আমেজ শুরু হয়ে যাবে।
ছুটির সূচি অনুযায়ী, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি চলবে ৪ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে পুনরায় নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে ৭ জুন রোববার থেকে। সেই হিসেবে এই স্তরের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের একটি দীর্ঘ বিরতি উপভোগ করতে পারবে।
অন্যদিকে মাদ্রাসাগুলোতে এই ছুটির ব্যাপ্তি আরও বেশি রাখা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৪ মে শুরু হওয়া ছুটি চলবে ১১ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন রোববার থেকে পুনরায় মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো সচল হবে। এর ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সব মিলিয়ে টানা ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
জুন মাসের এই দীর্ঘ ছুটির পর জুলাই মাসেও শিক্ষার্থীদের জন্য বিরতির সুযোগ থাকছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে একদিনের ছুটি থাকবে। এছাড়া আগস্ট মাসেও বেশ কিছু ছুটির দিন ধার্য রয়েছে।
এর মধ্যে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাসেও শুভ জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে নির্ধারিত ছুটি ভোগ করবে শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবছরই পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমিয়ে বিশ্রাম ও পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ দিতে শিক্ষাপঞ্জিতে এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়।
দেশবার্তা/একে