আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যশোরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, যশোর জেলার প্রতিটি পশুর হাট ইজারাদারদের নিজ খরচে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট ৩১টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্থানীয় হাট ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ২১টি হাট, যেগুলো ইজারাদাররা পরিচালনা করছেন, সেগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশু জবাই, চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জুমার নামাজে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আলোচনা করতে হবে। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রান্তিক পর্যায়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই জাতীয় বা আঞ্চলিক সড়কের পাশে হাট বসানো যাবে না। যান চলাচল ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ বা অস্থায়ী হাট স্থাপন করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছিনতাই ও জাল টাকার কারবার রোধে পুলিশ ও বাজার কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি পশু ও চামড়াবাহী গাড়িতে বাধ্যতামূলক ‘মুভমেন্ট ব্যানার’ ব্যবহার করতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো হয়রানি থাকবে না।
যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণে হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাল টাকা শনাক্তে মোট ৫৮টি মেশিন পশুর হাটে ব্যবহার করা হবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জাল টাকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ৪৯ বিজিবির প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন জানায়, সুষ্ঠু ও নিরাপদ ঈদ উদযাপনে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে।
দেশবার্তা/একে