ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  রোববার | ২৪ মে ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১৯:৫০
চলমান বার্তা:
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে নেট দুনিয়ায় শোরগোল
ভারতে ‘তেলাপোকা পার্টির’ পর এবার আত্মপ্রকাশ করলো ‘পরজীবী ফ্রন্ট’
বিজেপির চেয়েও ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেশি সিজেপির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১৭:০০ আপডেট: ২৩.০৫.২০২৬ ১৩:৩৪  (ভিজিটর : )

প্রতিপক্ষ খুঁজে পেল ভারতের তরুণদের অনলাইন গ্রুপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। আরশোলাদের এই দলের বিপক্ষে এবার ইন্টারনেটে হাজির হয়েছে পরজীবীদের দল। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ বা এনপিএফ (NPF)।

যে দেশ ইতিমধ্যেই বিবিধ জোট, দল, উপদল এবং হোয়াটসঅ্যাপ ওয়ার রুমে পরিপূর্ণ, সে দেশ হয়তো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ এক ‘রাজনৈতিক’ যুগে প্রবেশ করেছে। সিজেপি এবং এনপিএফ- উভয়ই মূলত ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলন থেকে তৈরি হওয়া দুটি গোষ্ঠী। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের মতো গাম্ভীর্য এবং মিমের (Meme) মতো মজার বিষয় নিয়ে দল দুটি এখন নেটমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, দুটি দলই তৈরি হয়েছে মূলত সমাজের ‘জেন-জি’ (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে।

‘আরশোলা’ মন্তব্যের সূত্রপাত যেভাবে

এই অদ্ভুত আন্দোলনের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এক আইনজীবীর ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ তকমা নিয়ে চলা মামলায় তিনি মন্তব্য করেন, বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলার মতো’ আচরণ করেন। কোনো পেশায় স্থান না পেয়ে তাঁরা সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার (RTI) কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সকলকে আক্রমণ করেন।

যদিও প্রধান বিচারপতি পরে স্পষ্ট করেন যে তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি যুবকদের অবমাননা করেননি, বরং যারা জাল বা ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে পেশায় প্রবেশ করেন, তাঁদের কথা বলেছেন। তবে ততক্ষণে অনলাইনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ সংগঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং জন্ম হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির।

অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর

সিজেপি নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে বর্ণনা করে। তারা জানায়, তাদের সদর দপ্তর ‘যেখানেই ওয়াইফাই কাজ করে’ সেখানেই অবস্থিত! দলের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হলো- বেকার, অলস ও সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা। চালুর প্রথম দুই দিনেই ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য এতে নাম লেখান।

যোগ দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র থেকে অখিলেশ যাদব

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনে ইতিমধ্যেই শামিল হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ। দলে ‘যোগ’ দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, বলিউডের নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপ ও অভিনেত্রী কঙ্কনা সেনশর্মার মতো ব্যক্তিত্বরাও। 

বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ারের সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়ে এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলারের চেয়েও বেশি।

এই দলের নেপথ্যে রয়েছেন দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) সাবেক সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী অভিজিৎ দীপকে। পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও বর্তমানে বস্টন ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তর করা অভিজিৎ আমেরিকা থেকেই চালাচ্ছেন এই ‘তেলাপোকা পার্টি’।

মাঠ কাঁপাতে এবার ‘পরজীবী ফ্রন্ট’

সিজেপির জনপ্রিয়তার পরপরই প্রায় অনিবার্যভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ বা এনপিএফ। সিজেপি যেখানে ‘অলস এবং বেকারদের’ প্রতিনিধিত্ব করছে, সেখানে এনপিএফ খুঁজছে এমন প্রতিবাদীদের, যারা সমাজব্যবস্থার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করতে পারবে।

নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণনা করে এনপিএফ বলেছে, “সিজেপির বিরোধী দল হিসেবে জন্ম নেওয়া এনপিএফ হলো এমন একদল নাগরিকের আন্দোলন, যাঁরা শাসনব্যবস্থাকে নাটক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। আমরা অপরাধমুক্ত সংসদ ও শিক্ষিত প্রতিনিধিদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি।”

অদ্ভুত দুই নির্বাচনী ইশতেহার

ভারতীয় রাজনীতিতে ইশতেহারের গুরুত্ব মাথায় রেখে দুই দলই তা প্রকাশ করেছে। সিজেপি নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ বলে বর্ণনা করে দাবি তুলেছে- প্রধান বিচারপতিদের জন্য অবসর-পরবর্তী রাজ্যসভার আসনে নিষেধাজ্ঞা, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং দলত্যাগী বিধায়ক-সাংসদদের জন্য ২০ বছরের নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। সেই সঙ্গে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা।

অন্যদিকে, এনপিএফের ইশতেহার আরও বেশি নাটকীয়। তারা ‘পরজীবী’দের এমন এক টিকে থাকা সত্তা হিসেবে তুলে ধরেছে, যারা সাধারণ নাগরিকদের শোষণকারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে লড়াই করবে। সমাজে ‘আসল পরজীবী’ কারা—সেই প্রশ্নও তুলেছে দলটি।

আপাতত, আরশোলা বা পরজীবী দল- কোনোটিই ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। তবে তাদের এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন একই সঙ্গে মানুষকে হাসাচ্ছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গভীরভাবে ভাবাচ্ছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
শুক্রবার পর্যন্ত তৈরি পোশাক কারখানার ৮৬% ঈদ বোনাস পরিশোধ
শুক্রবার পর্যন্ত তৈরি পোশাক কারখানার ৮৬% ঈদ বোনাস পরিশোধ
৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালালে বাতিল হতে পারে লাইসেন্স
৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালালে বাতিল হতে পারে লাইসেন্স
শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: ইউনিসেফ
শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: ইউনিসেফ
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg