গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ও দমবন্ধ করা তাপদাহের পর অবশেষে নরসিংদী জেলা ও মাধবদীজুড়ে নেমেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি। প্রচণ্ড গরমে শিশু, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম, ঠিক তখনই শুক্রবার বিকেলের এই বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ও প্রশান্তি ফিরিয়ে এনেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরের পর থেকে নরসিংদী জেলা সদর, মাধবদী পৌর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রসহ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে নরসিংদী ও মাধবদীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। ফলে এই বৃষ্টি যেন মরুর বুকে এক পশলা শান্তির পরশ হয়ে এসেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা বৃষ্টিতে তপ্ত আবহাওয়া নিমেষেই শীতল হয়ে যায়। এতে জেলার তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।
মাধবদী পৌর শহরের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “ঈদের পর থেকেই বৃষ্টির কোনো দেখা ছিল না। প্রতিদিন তীব্র রোদের কারণে কাজকর্ম, চলাফেরা কিংবা খাওয়া-দাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টির পর গরম যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেছে।”
ব্যবসায়ী ওসমান গনি বলেন, “কয়েক দিনের টানা গরমে ছোট-বড় সবাই চরম দুর্ভোগে ছিল। আজকের এই বৃষ্টিতে শরীর ও মনে প্রশান্তি নেমে এসেছে।”
এদিকে টানা গরমের কারণে হাটবাজারের বেচাকেনাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টির পর জেলা সদর ও মাধবদীর ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জে অ্যান্ড জে সাইজিং মিলসের ম্যানেজার শরিফ হোসেন বলেন, “কয়েক দিন ধরে গরমের কারণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অফিসে বসে থাকাও কষ্টকর ছিল। আজকের বৃষ্টিতে যে স্বস্তি মিলেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
স্থানীয়দের মতে, টানা তাপদাহের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় হওয়া এই বৃষ্টি একদিকে যেমন জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং তাপমাত্রা কমিয়েছে, অন্যদিকে ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতি ও কৃষিক্ষেত্রেও নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ