চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) ঘোষণা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে সিবিএ ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম শ্রম অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দীনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী সিবিএ ঘোষণার ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ, নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতাভাবে সিবিএ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সিডিএর একাধিক শ্রমিক নেতা প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শ্রম আইনকে পাশ কাটিয়ে সিবিএ ঘোষণা দেওয়ায় তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমাদের মতামত না নিয়েই সিবিএ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি স্পষ্টতই আইন ভঙ্গ।
বিশেষ সৃত্রে জানা, আইন অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বাধিক ভোটের মাধ্যমে সিবিএ প্রতিনিধি নির্বাচনের বাধ্যবাদকতা থাকলেও রহস্যজনক কারনে একটি চিঠির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে (রেজি নং-চট্ট.২৯৪৯) বৈধ সিবিএ ঘোষণা করেছে। এধরণের চিঠি ইস্যু করে নির্বাচন ছাড়া কাউকে বৈধতা দেয়ার এখতিয়ার শ্রম অধিদপ্তর বা পরিচালকের নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রম দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ”বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা ২০২(১) মোতাবেক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), চট্টগ্রাম -এ ’চউক জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দল’ (রেজি: নং-চট্ট-২৯৪৯) একমাত্র সক্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন হওয়ায় আবেদনের তারিখ ২৫/০৮/২০২৫ খ্রি তারিখ হতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য উল্লেখিত ইউনিয়নকে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) ঘোষণা করা হলো। যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) হিসেবে চউক জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দল (রেজি: নং চট্ট- ২৯৪৯) এর মেয়াদকাল হবে দু’বছর। যেখানে স্বাক্ষর করেছেন মো. গিয়াস উদ্দীন, যিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তর চট্টগ্রাম এর পরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের দায়িত্বে আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, সিডিএ এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দীন বলেন, শ্রম দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পরে আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি বলে জানিয়ে তাদেরকে যথাসময়ে চিঠি দিয়েছি। তবু তাঁরা আরেকটা সংগঠনকে বৈধ সিবিএ ঘোষণা করেছে যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। আমাদের সংগঠন ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অদ্যাবধি কার্যক্রম চলমান আছে। অথচ শ্রম দপ্তরের চিঠিতে আমরা সক্রিয় নেই বলে জানিয়েছে যা নৈতিক অধঃপতন বলে আমরা মনে করি। আর সিডিএ এর শ্রমিকের সংখ্যা ১৬৯ জন, এখানে ৩টি ট্রেড ইউনিয়নেরও কোন প্রয়োজন আছে বলে মনো করি না। আবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়নকে শ্রম অধিদপ্তর থেকে কোন চিঠি দেননি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দল’কে বৈধ সিবিএ ঘোষণা করা শ্রম দপ্তরের চিঠি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এটিকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন চউকের কর্মচারীরা।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা।সিবিএ ঘোষণা একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এখানে আইন ভঙ্গ হলে শুধু শ্রমিকদের অধিকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও শ্রম সম্পর্কও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
প্রতিনিধি/এসএ/আরএইচ