ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৪৫
চলমান বার্তা:
গণসচেতনতা তৈরি করতে পারলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সহজ হতে পারে
মো. নজরুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৫৭  (ভিজিটর : )
সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মো. নজরুল ইসলাম।

সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মো. নজরুল ইসলাম।

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিল্প, পরিবহন, কৃষি—প্রতিটি খাতই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজার কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা নিয়ে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা বিবেচনায় রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় পদ্ধতি চালু করা হলে হঠাৎ করে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বা হ্রাস এড়ানো সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়ত, সরকারকে পর্যাপ্ত কৌশলগত মজুত (strategic reserve) গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে এই মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

তৃতীয়ত, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমদানি, পরিশোধন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতি বা অপচয় কমাতে পারলে তেলের প্রকৃত মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চতুর্থত, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি বা অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বাজারের চাপও হ্রাস পাবে।

পঞ্চমত, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। এতে জ্বালানির চাহিদা কমবে এবং বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা কোনো একক পদক্ষেপে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সঠিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প জ্বালানির প্রসারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে।

বর্তমান সময়ে জ্বালানি তেলের সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব আমাদের দেশেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, সরকারকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎস থেকে আমদানি বাড়াতে হবে। একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করলে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

দ্বিতীয়ত, তেলের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয় করলে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিজনিত চাপ সাধারণ মানুষের ওপর কম পড়বে।

তৃতীয়ত, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রদানে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। নিম্নআয়ের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভর্তুকি প্রদান করলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

চতুর্থত, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন চালু থাকলে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমবে, ফলে জ্বালানির চাহিদাও হ্রাস পাবে।

পঞ্চমত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারকে আরও বিনিয়োগ ও প্রণোদনা দিতে হবে। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির মতো বিকল্প উৎস ব্যবহারের মাধ্যমে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

ষষ্ঠত, জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অপচয় রোধ, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করলে সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।

জনদুর্ভোগ কমানোর উপায়:
প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু, গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং জোরদার, গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং জোরদার,
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সময়োপযোগী পরিকল্পনা।

জ্বালানি তেল সংকট একটি জটিল সমস্যা হলেও সুপরিকল্পিত নীতি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে।

জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলায় সরকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমানো। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হলো-
বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি: সরকার একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি করে তেল আমদানির চেষ্টা করে, যাতে কোনো একটি উৎসে সমস্যা হলে সরবরাহ ব্যাহত না হয়।

কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) বৃদ্ধি: সংকটকাল মোকাবিলার জন্য সরকার তেলের মজুত বাড়ায়, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা যায়।

মূল্য সমন্বয় নীতি: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কমে।

ভর্তুকি প্রদান: নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষি ও গণপরিবহন খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গণপরিবহন উন্নয়ন: সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়, যাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে এবং জ্বালানির চাহিদা হ্রাস পায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার প্রকল্প ও প্রণোদনা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের ওপর নির্ভরতা কমায়।

জ্বালানি সাশ্রয়ী কর্মসূচি: সরকার বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেমন-অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার কমানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ইত্যাদি।

সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন: তেল পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়ে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলায় সরকারের এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে কার্যকর হলে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অফিস সময়সূচি পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিচে বিষয়টি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো-

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক দেশই সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশেও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে সরকার অফিসের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে।

নতুন সময়সূচির মূল উদ্দেশ্য:
বিদ্যুৎ খরচ কমানো, দিনের আলো সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অফিস চলাকালীন বিদ্যুতের চাপ হ্রাস করা, জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমানো।

বাস্তবায়নের ধরণ:
অফিস শুরু ও শেষের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সময়সূচি অনুসরণ করছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিস সময়সূচি পরিবর্তন একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলেও এর সফলতা নির্ভর করে সঠিক বাস্তবায়ন ও অন্যান্য খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মো. নজরুল ইসলাম।
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
বিপিসিতে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
বিপিসিতে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে তুরস্ক গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে তুরস্ক গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৩ দিনের ব্যবধানে মোহাম্মদপুরে আবারও হত্যাকাণ্ড
৩ দিনের ব্যবধানে মোহাম্মদপুরে আবারও হত্যাকাণ্ড
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg