সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় জনপদে সুপেয় পানির তীব্র সংকট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এক কলস পানি সংগ্রহ করতে হয় এ অঞ্চলের মানুষকে। উপকূলবাসীর এই নিরন্তর সংগ্রাম ও পানির অধিকারের দাবিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে শামিল হলেন দুই শতাধিক মানুষ। হাতে ও কাঁধে মাটির কলস নিয়ে তারা অংশ নিলেন ‘রান ফর ওয়াটার-২.o’ শীর্ষক এক ম্যারাথনে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে যখন উপকূলের আকাশে সূর্যের আভা মাত্র ফুটতে শুরু করেছে, তখনই মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজারে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া এই ম্যারাথন প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শরুব ইয়ুথ টিম’ এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা।
প্রতিযোগিতায় উপকূলের সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি হয়ে কলস কাঁধে দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন গাবুরার জি.কে সাব্বির হোসেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন ও সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু।
তবে আয়োজকরা বলছেন, এটি কেবল কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিপন্ন এক জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীকী প্রকাশ।
ম্যারাথন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের ভয়াবহ পানি সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এই অঞ্চলের উৎসগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপদ পানি এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক দুষ্প্রাপ্য বিলাসিতা।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, নিরাপদ পানি পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও উপকূলের নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হয় পানি সংগ্রহের পেছনে। অনেকেই বাধ্য হয়ে চড়া দামে পানি কিনে জীবন ধারণ করছেন। এই বাস্তবতাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের নজরে আনতেই তাদের এই ‘রান ফর ওয়াটার’।
একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় আরও ৩০টিরও বেশি যুব সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। উপকূলের এই পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
তারা মনে করেন, এমন আয়োজন উপকূলীয় জনপদের জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিনিধি/একে