দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন করে এবং বগুড়া, নাটোর ও পঞ্চগড়ে একজন করে মারা গেছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। মারা গেছে গবাদিপশুও।
প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর
গাইবান্ধা
জেলায় পৃথক বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন—দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ফুয়াদ (১৪), রাফি (১২) ও মিজানুর (২০)। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এ সময় একটি গরুও মারা যায়।
অন্যদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার জামিরা চরে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে মানিক হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাঁর ঘোড়াটিও মারা যায়। এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলায় বাড়ির পাশে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন নম্বর আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে তাড়াশের বেত্রাশীন গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) মারা যান। একই সময়ে রায়গঞ্জের মল্লিকচান এলাকায় কাটা ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।
জামালপুর
জামালপুর সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় এক গৃহবধূসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সদরের চরযথার্থপুর এলাকায় নদীপাড়ে গরু চরাতে গিয়ে হাসমত আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। এদিকে মেলান্দহের কড়ইচুড়া গ্রামে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঠাকুরগাঁও
পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে নিয়ামতপুর গ্রামে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে লাবণী আক্তার (৩৫) নামের এক নারী এবং কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে ইলিয়াস আলী (৩৭) নামের এক ব্যক্তি বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
নাটোর
সিংড়া উপজেলার চলনবিলে ধান কাটার সময় সম্রাট হোসেন (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির সময় মাঠের পাশে একটি ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পর সেখানে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া ও পঞ্চগড়
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে সুমন (৩৫) নামের এক যুবক মারা গেছেন। এদিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) বজ্রপাতে এসব মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে