২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি গালা ইভেন্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর এই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মতো বিশাল আসরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধ থাকা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ অবিলম্বে পুনরায় চালু করা ‘অপরিহার্য’।
প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গত শনিবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারে কোল টমাস অ্যালেন (৩১) নামে এক ব্যক্তি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান, শটগান এবং তিনটি ছুরি নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলেও তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। এই ঘটনার পর পুরো হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ওয়াশিংটনের এই ঘটনা আমাদের দেশের সামনে থাকা অপ্রত্যাশিত হুমকির একটি কঠোর অনুস্মারক। বিশ্বকাপের সময় লাখ লাখ দর্শক এবং শত শত বড় ইভেন্ট সামলাতে ডিএইচএস-এর পূর্ণ কার্যকারিতা প্রয়োজন। আমরা কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করতে পারি না।’
বাজেট সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে গত নয় সপ্তাহ ধরে ডিএইচএস-এর কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্কারের দাবিতে ডেমোক্র্যাটরা অর্থায়নে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী জুনের শুরুর মধ্যেই এই আইনি জটিলতা নিরসনে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য মাইক ললার বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট যখন দোরগোড়ায়, তখন নিরাপত্তা সমন্বয়কারী বিভাগ ১১০ দিনের বেশি বন্ধ থাকা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।’
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে যৌথভাবে এই ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
দেশবার্তা/একে