দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েক মাস ধরে চলা জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন এখন অনেকটাই উধাও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে কিংবা রাত জেগে তেলের জন্য অপেক্ষার যে দুর্ভোগ ছিল, তাতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সরকারের ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থা চালু, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং নতুন মূল্য নির্ধারণের পর পাম্পগুলোতে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি।
ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ থাকলেও আগের মতো আর ক্রেতার ভিড় নেই।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যেখানে এক থেকে দেড় কিলোমিটারজুড়ে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল, সেখানে এখন পরিবেশ অনেকটাই ফাঁকা ও স্বাভাবিক। অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ হওয়া এবং ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত গ্রাহকদের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক নূরে আলম সিদ্দিক, হিরেন্দ্রনাথ বর্মন এবং ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মকবুল হোসেন জানান, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। এখন ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত ও সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে। ভোগান্তি বা হট্টগোল নেই, পরিবেশও অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।
ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. লিটন সরকার জানান, আগে তেল সরবরাহের দিনে প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হতো। বর্তমানে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগছে। পাশাপাশি নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকায় এখন আর তেলের সংকট নেই।
স্থানীয় ইফতি ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরী খোকন বলেন, তেল নিয়ে সাময়িক সমস্যা থাকলেও ফুয়েল কার্ড চালুর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের মধ্যেই স্বস্তি ফিরেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ