চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ‘ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে কয়েকশো গ্রাহক এই কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে এসে প্রথমে এক্সিম ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় তালা দেন। পর্যায়ক্রমে তারা ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেও তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকগুলোর সামনে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ চলাকালে আমানতকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের কণ্ঠে ছিল- ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়’, ‘হেয়ার কাট হেয়ার কাট, মানি না মানি না’ এবং ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাজির দেউড়ি শাখার আমানতকারী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করা টাকা ব্যাংকে রেখে কি অপরাধ করেছি? আমার টাকা আমি ফেরত নেব, তাতে আবার ‘হেয়ার কাট’ (আমানতের অর্থ কর্তন) কিসের? আমাদের টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে।”
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানান, “তাঁর অর্ধকোটি টাকা আটকে থাকায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ব্যাংক এক টাকাও দিচ্ছে না। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এখন দাবি আদায়ে শাখাগুলোতে তালা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছেন। দ্রুত আমানত ফেরত না দিলে সামনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আমানতকারীদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ার পর থেকে তারা টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
দেশবার্তা/একে