ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১৭:৪০
চলমান বার্তা:
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততায় উদ্বিগ্ন ভারত: আনন্দবাজারের প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১৩:৫৫ আপডেট: ১৩.০৫.২০২৬ ১৫:৪৬  (ভিজিটর : )

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে ভারত। দেশটি মনে করছেন, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা–স্বার্থের পরিপন্থী। ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এমনটাই উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পরে তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’দের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে সরব হতে দেখা যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্র সরকারকে। গতকাল মঙ্গলবার আবারও সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল এই প্রসঙ্গে কথা বলেন।

তার আগে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

এই ঘোষণা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে দেখছে—সেই প্রশ্নের জবাবে রণধীর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত। সীমান্তের নিরাপত্তা আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। সেভাবেই আমরা এগোব।’

এর পাশাপাশি, ভারতের ক্ষমতার অন্দরমহলে আলোচনা চলছে—তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-স্বার্থের পরিপন্থী। আনন্দ বাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই চীনের তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহের বিষয়টি ভারতের কাছে উদ্বেগজনক। কারণ, এটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে চীন।

নয়াদিল্লি মনে করে, সেটাই আসল উদ্দেশ্য চীনের। আর সেই কারণে চীনের পাশাপাশি ভারতও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে তিস্তা নদী সংরক্ষণ এবং প্রকৌশলগত ক্ষেত্রে হাত বাড়িয়েছিল। 

প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভার ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে সবই কার্যত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তিস্তা প্রকল্প। তিস্তা নিয়ে যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ নিয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। 

এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার নদী খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দুই পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের মতো বেশ কিছু কাজ। ভারত মনে করে—চীন যদি এই প্রকল্পে নাক গলায়, তা হলে ভূকৌশলগতভাবেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চীনের নিশানার মধ্যে চলে আসবে।

নয়াদিল্লির একটি সূত্রের বক্তব্য, ঢাকার বরং উচিত বেইজিংয়ের ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা। ইয়ারলুন সাংপো (ব্রহ্মপুত্র নদের তিব্বতি নাম) নদীতে চীনের তৈরি বাঁধে ভারত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই তাতে বাংলাদেশেরও ক্ষতি। সে বিষয়টির কড়াভাবে মোকাবিলা করা উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের। 

নদীটি ভারতে ভাটিতে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের জীবিকার উৎস এবং বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে টিকিয়ে রাখে। 

ভারতীয়দের দাবি, এর আগে মেকং নদীতে ১২টি ধাপে চীনের তৈরি বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাটিতে জলের প্রবাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্রহ্মপুত্রকে একটি পানিবোমায় পরিণত করতে পারে, যেখানে হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়া হলে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে বন্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, গঙ্গা অববাহিকার মাত্র ৭ শতাংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত। ফলে দেশটি পুরোপুরি উজানের দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। 

নয়াদিল্লির একাংশ মনে করছে, ঢাকার আগে উচিত ইয়ারলুন সাংপো বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য চীনের উপরে চাপ বাড়িয়ে তার পরে তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতায় রাজি হওয়া।

আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—অপারেশন সিঁদুরের সময়ে তারা পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছিল। 

এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা এই ধরনের সহযোগিতার কথা আগেই জানতাম। পেহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর একটি নিখুঁত, ক্রমিক নিশানাযুক্ত প্রত্যুত্তর। পাকিস্তানে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় মদদপ্রাপ্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা তার লক্ষ্য ছিল। এখন সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের মান-সম্মান বিসর্জন দেবে কি না, সেটা রাষ্ট্রসমূহের সিদ্ধান্ত।’

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে দেশে বছরে মৃত্যু ২৪ হাজার
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে দেশে বছরে মৃত্যু ২৪ হাজার
লুটপাট করা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী
লুটপাট করা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী
১৬ মাসে দেশে এসেছেন নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গা
১৬ মাসে দেশে এসেছেন নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গা
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg