যুদ্ধ বন্ধে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আস্থা অর্জনে’ পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না করা হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় বসবে না তারা।
মঙ্গলবার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য এই পাঁচটি শর্তকে ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
এছাড়া বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দেশটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
এই বার্তা ইতিমধ্যে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইরান। তাদের মতে, আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য ন্যূনতম আস্থা তৈরির পরিবেশ তৈরি করতে এসব শর্ত বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই এই ৫ শর্ত দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের আগের প্রস্তাবটিকে ‘সম্পূর্ণ একতরফা’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান।
তাদের অভিযোগ, যুদ্ধের ময়দানে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র তা আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে ইরানের এই প্রস্তাবকে ইতিমধ্যে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। জেনেভায় আলোচনা চলাকালে ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলায় দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন মিসাইল হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় ৩৯ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে অন্তত ১০০ বার পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন। তবে সেই বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত।
দেশবার্তা/একে