মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের সিমেন্ট শিল্পে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন দেশীয় উৎপাদকরা। মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প হিসেবে এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে গিয়ে উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা এই শিল্পের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।
দেশের সিমেন্ট খাত কাঁচামালের জন্য প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপকরণ ক্লিংকারের ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আনতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ফ্রেইট বা জাহাজ ভাড়া এবং বীমা খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ক্লিংকার আনা গেলেও এখন বাধ্য হয়ে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী জানান, আগে প্রতি টন ক্লিংকারের দাম ৪২ থেকে ৪৩ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে।
রয়্যাল সিমেন্ট লিমিটেডের তথ্যমতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই দাম ৫৭ থেকে ৫৮ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। একইভাবে জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
কাঁচামালের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারে সিমেন্টের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন, প্রতি বস্তা সিমেন্টে উৎপাদন ব্যয় অন্তত ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাড়লেও ভোক্তাদের ওপর মাত্র ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত চাপানো সম্ভব হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা কম থাকায় এবং সরকারি-বেসরকারি বড় প্রকল্পগুলোর গতি ধীর হওয়ায় উৎপাদকরা চাইলেই দাম বেশি বাড়াতে পারছেন না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় অংকের লোকসান গুনছে।
বর্তমান এই সংকটকে সিমেন্ট শিল্পের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, গত কয়েক বছরে একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ ধাক্কায় এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। নীতিগত অনিশ্চয়তা, ডলার সংকট এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্মাণ খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা এই মুহূর্তে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
দেশবার্তা/একে